ঢাকা, সোমবার,০৬ এপ্রিল ২০২০

তুরস্ক

তুরস্কের একটি শহর বিক্রি হয়ে যাচ্ছে!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০৭ মে ২০১৮,সোমবার, ০৯:৫৬ | আপডেট: ০৮ মে ২০১৮,মঙ্গলবার, ১০:৩০


প্রিন্ট
গবাদি পশুর চারণ ভূমি এখন অনেক স্থান

গবাদি পশুর চারণ ভূমি এখন অনেক স্থান

আড়াই হাজার বছরের পুরনো তুরস্কের একটি শহরে বিক্রি করা হচ্ছে। খবরে বলা, ধন সম্পদ শিকারিদের খপ্পর থেকে শহরটিকে বাঁচানোর জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

একই সাথে শহরটির আস্তে আস্তে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে বিভিন্ন অংশ সেটা মেরামত করাও একটা দিক।

১৩৩ হেক্টর বা ৩৩০ একর জমির এই সম্পত্তি এখন ব্যক্তিমালিকানায় রয়েছে। শহরটি প্রাচীন গ্রীসের বারগাইলিয়া।

এর মালিক এর দাম ৩৫ মিলিয়ন লিরা ঘোষণা করেছে বলে তুরস্কের হুরিয়াত নিউজপেপার খবর ছাপিয়েছে।

শহরটির থিয়েটার, প্রাচীন গ্রীসের নগরদুর্গ, মহল্লা এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ ইমারাত যেগুলো গ্রেড ওয়ান প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন হিসেবে ধরা হয় সেগুলো এখন গবাদিপশুর চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে।

বিশাল এক আশ্রম এখন পশুর থাকার জায়গা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

এখানকার একজন মালিক হুসেইন ইউকপিনার বলেছেন, তিনি একা এই প্রাচীন নগরীটি রক্ষা করতে পারছেন না, তাই এখন সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছেন যাতে করে সরকার পদক্ষেপ নেয়।

ধন সম্পদ শিকারিদের খপ্পরে
প্রাচীন এই নগরীটিতে কোনো তাৎপর্যপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজ করা হয়নি। আবার এটা এখন সম্পদ শিকারিদের নজরে রয়েছে।

ইতিমধ্যে রোমান সাম্রাজ্যের মোজাইক চুরি হয়েছে বলে খবর বের হয়েছে।

এটা গ্রেড ওয়ান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হওয়ার পরেও কোনো সরকার এটা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়নি। কারণ এটা ব্যক্তিমালিকানার অধীনে ছিল।

এবারই যে এই শহরটি বিক্রির চেষ্টা চলছে এমনটা নয়। ২০১৫ সালেও একবার বিক্রির চেষ্টা করা হয়েছিল।

স্থানীয় আবাসন ব্যবসায়ীরা সেসময় চমকদার বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন শহরটির বর্ণনা দিয়ে।

কিন্তু কেও এগিয়ে আসেনি। তবে এবারে গত বারের মূল্যের তুলনায় দুই মিলিয়ন কম মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

 

ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক মসলা বাজার আবার চালু
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ০৬ মে ২০১৮
তুরস্কের ইস্তাম্বুলের বিখ্যাত মসলা বাজার যা উসমানিয়া সাম্রাজ্যের আমলে থেকে এখনো চালু দুটি বাজারের একটি। ২০১৩ সাল থেকে পুনঃনির্মাণের জন্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। গত শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যিপ এরদোয়ান এটা আবার উদ্ধোধন করেন।

স্পাইস বাজার বা মিসরীয় বাজার নামেই এটা তুর্কিদের কাছে বিখ্যাত যা পুনঃনির্মাণের জন্য বন্ধ করে দেয়ার পরও শতাধিক পর্যটক প্রতিদিন এটার পুনরায় চালু হওয়ার সময় দেখতে প্রতি রাতে আসতেন।

এই ব্যবসাকেন্দ্রটির পাশে সমান জনপ্রিয় অন্য আরেকটি স্থান হলো গ্রান্ড বাজার। যা মসলা বাজারের পর সবচেয়ে প্রাচীন। এটা সর্বশেষ ১৯৪৫ সালে পুনঃনির্মাণের জন্য সাময়িক বন্ধ করা হয়েছিল। তখন এর অভ্যন্তরীণ নকশা ও বাহিরের অবকাঠোমোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পুনঃনির্মাণের সময় এর খিলান, গম্বুজ, ছাদ, ক্রস করিডোর ভল্টসহ সব পরিবর্তন এনেছিলেন। এই বাজারের ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বিশেষ স্থান হলো তাদের প্রার্থনা গৃহ যেখানে প্রতিদিন সবাই তাদের ব্যবসা শুরু করার আগে একত্রিত হয়ে ব্যবসায়িক উন্নতির জন্য প্রার্থনা করেন। এই স্থানটিকে আগের রূপ দেয়া হয়েছে। পিলারের উপর যে কনক্রিটের প্রলেপ ছিল তা বাদ দেয়া হয়েছে এবং সেখানে সীসায় মোড়ানো কাঠের ছাদ দেয়া হয়েছে।

এই বাজার বিভিন্ন ধরনের মসলা ও তুরস্কের বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন, সবজি ও খাবারের জন্য বিখ্যাত। এটা যখন কয়েক শ' বছর চালু হয়েছিল তখন থেকেই এই বাজার এইসব পণ্যের জন্য বিখ্যাত ছিল।

অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, এটা ইস্তাম্বুলের ৩৫৪ বছরের ঐতিহ্য। এটা পুনরায় চালু হওয়ার পর থেকে উচ্চমান ও আসল অবস্থা বজায় রাখবে। তিনি পূর্বে সংস্কারের সময় এর মূল আসল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এটা পুনঃনির্মাণে ১৬ মিলিয়ন তুর্কি লিরা (৩.৮ মিলিয়ন ডলার) খরচ হয়েছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট তার রাজনৈতিক জীবন শুরুর আগে এখানকার ব্যবসায়িক সময়ের কথা স্মৃতিচারণ করেন। তার এখানে খাবারের দোকান ছিল।

১৫৯৭ সালে তৃতীয় সুলতান মুরাদের স্ত্রী সাফিয়া সুলতানের নির্দেশে স্থপতি দাভুত আগা এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এর নির্মাণকাজ শেষ করতে ৬০ বছর লেগেছিল। এটা চালু হওয়ার পর আনাতোলিয়ার ভূখন্ড এবং সাবেক উসমানিয়া সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রদেশ ও বলকান থেকে আরব উপদ্বীপসহ সমগ্র অঞ্চলের ব্যবসায়িক কেন্দ্র ছিল এই মসলা বাজার।

ইস্তাম্বুল সব সময়ই এর অবস্থানের কারণে একটি আর্ন্তজাতিক স্থানে মর্যাদা লাভ করেছিল। ইউরোপ ও এশিয়ার মিলনস্থল, ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণসাগরের তীরবর্তী স্থান হওয়ায় বায়জানটাই ও অটোমান সময়েই ইস্তাম্বুলের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বব্যাপী। এর ফলে মসলা বাজার চালু হওয়ার পর থেকেই এখানে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পণ্য নিয়ে ব্যবসায়ীদের আগমন হতে থাকে। এখানে রেশমী কাপড়, মসলা, বিভিন্ন ধরণের দামী রত্ন পাথর, হাতে বোনা কাপড়, কার্পেট ইত্যাদি পণ্য পূর্বাঞ্চল থেকে আসত। আবর উপদ্বীপের ব্যবসায়ীরা ইউরোপে যাওয়ার জন্য ইস্তাম্বুল হয়ে যেত। এভাবেই এখানকার বাজার বিখ্যাত হয়ে উঠে। ইতালীয় ও ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরা ও এখনো তাদের ব্যবসায়িক কাজে আসত। শস্য, ফলমূল, সবজি, গোশত, তেল, মাছ, কফি, লবণ, মশলা, কাঠ ও বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পণ্য যেমন কাঠকয়লা পাওয়া যেত। স্থানীয় বন্দর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এসব পণ্য পৌঁছে যেত। এভাবেই মসলা বাজারের নাম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। যা এখনো রয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫