ঢাকা, মঙ্গলবার,৩১ মার্চ ২০২০

উপমহাদেশ

বিচারের আওতায় আসছে মিয়ানমার

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০৭ মে ২০১৮,সোমবার, ১০:৫২


প্রিন্ট
 বিচারের আওতায় আসছে মিয়ানমার

বিচারের আওতায় আসছে মিয়ানমার

রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান এবং ওআইসির পুনর্গঠনের প্রস্তাবসহ ৩৭ দফা ঢাকা ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ওআইসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দুই দিনের ৪৫তম সম্মেলন। মিয়ানমারকে বিচারের আওতায় আনতে মন্ত্রী পরিষদ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে ওআইসি।

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা-ওআইসি’র এবারের সম্মেলনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে রোহিঙ্গা সঙ্কট। এই মানবিক বিপর্যয়ের স্থায়ী সমাধানে বিশেষ এক অধিবেশনে মিয়ানমারকে জবাবদিহিতা ও বিচারের আওতায় আনতে ওআইসিতে মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটি গঠনে প্রস্তাব আনে গাম্বিয়া।
এই প্রস্তাবের ওপর আলোচনার পর ওই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী।

এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে আমরা প্রস্তুত। তবে তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে দেয়ার পরিস্থিতি এখনো হয়নি। তাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঘর পুনরায় তৈরি হয়নি।

রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানে, মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছেন ওআইসির মহাসচিব।

ওআইসির মহাসচিব ইউসুফ বিন আহমাদ আল-ওতাইমিন বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর এই বর্বরতা জাতিগত নিধন। এই দায় মিয়ানমারকেই নিতে হবে। এর সমাধানে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক আদালতসহ বৈশ্বিক সম্প্রদায়কে একসাথে কাজ করতে হবে।

এই সম্মেলনে আসা সিদ্ধান্তগুলোকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। মুসলিম বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা ভবিষ্যতে আরো সাফল্য বয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা তার।

নির্ধারিত এলাকার বাইরে যেতে পারবে না রোহিঙ্গারা : মিয়ানমারের সেনাপ্রধান

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরাতে যখন মিয়ানমারকে চাপ দিচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, ঠিক সেই মুহূর্তেই রোহিঙ্গাদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন দেশটির সেনাপ্রধান মিন অং হাং। গত ৩০ এপ্রিল মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে দেশটিতে সফররত জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলের কর্মকর্তাদের তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গারা শুধু তাদের জন্য তৈরি ‘আদর্শ গ্রামেই’ নিরাপদ। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে শনিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে র‌্যাপলার।

বার্মিজ সেনাপ্রধানের বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরা এবং ফিরে যাওয়ার পর তাদের স্থায়ী বসতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেননা, তার বক্তব্যের মানে দাঁড়ায়, কথিত ‘আদর্শ গ্রামে’র বাইরে যেতে দেয়া হবে না রোহিঙ্গাদের। অর্থাৎ আবদ্ধ পরিবেশেই দিন যাপন করতে হবে তাদের।

মিন অং হাং বলেন, রোহিঙ্গারা যত দিন তাদের জন্য তৈরি ‘আদর্শ গ্রামে’ থাকবে, তত দিন তারা নিরাপদ। নিজের ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, জাতিসঙ্ঘ কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, রোহিঙ্গারা তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে থাকলে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। এর আগে জাতিসঙ্ঘের অনুসন্ধানে বার্মিজ সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ যৌন সন্ত্রাসের আলামত পেলেও মিয়ানমারের সেনাপ্রধান তা নাকচ করে দেন। এরই মধ্যে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তাদেরকে ‘নিষিদ্ধ তালিকা’য় রেখেছে জাতিসঙ্ঘ। তবে সম্প্রতি নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকে বার্মিজ সেনাপ্রধান দাবি করেছেন, মিয়ানমারের সেনা-ইতিহাসে কোনো যৌন নিপীড়নের নজির নেই। বাংলা ট্রিবিউন।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে জাতিগত নিধনযজ্ঞ শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী বৌদ্ধরা। জীবন ও সম্ভ্রম বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাত লাখ মানুষ।

জাতিসঙ্ঘের এক অনুসন্ধানী তদন্তে উঠে আসে, রোহিঙ্গা নারীরা ধারাবাহিকভাবে দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। ঘটনা তদন্তে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে গিয়ে সেসব ভয়াবহ যৌন নিপীড়নেরা ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারে সহিংসতা ও যৌন নিপীড়নের ঘটনা তদন্তে গঠিত জাতিসঙ্ঘের অনুসন্ধানী দল।

জাতিসঙ্ঘের দুই কর্মকর্তা জানান, রোহিঙ্গাদের রাখাইন থেকে তাড়ানোর অস্ত্র হিসেবে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণকে ব্যবহার করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তবে সম্প্রতি জাতিসঙ্ঘ প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠকে শীর্ষ জেনারেল দাবি করেন, রোহিঙ্গা নারীদের ওপর কোনো রকম যৌন নিপীড়ন চালানো হয়নি। তার ভাষায়, ‘মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সবসময় নিয়মতান্ত্রিক। যারা আইন ভঙ্গ করে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেই আমরা।’ তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের ধর্ম ও সংস্কৃতির সাথে পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। যদি কাউকে দোষী পাওয়া যায় তাকে অবশ্যই শাস্তি দেয়া হবে।’

এদিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর আক্রমণাত্মক অবস্থানের মুখেও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ। গত ১ মে রাখাইন রাজ্য পরিদর্শনের পর পরিষদের প্রতিনিধিদলটি এ আহ্বান জানায়। নেপিদোতে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা জাতিসঙ্ঘের সদস্য দেশ হিসেবে মিয়ানমারকে কিছু বাধ্যবাধকতা পালনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

জাতিসঙ্ঘে নিয়োজিত কুয়েতের প্রতিনিধি মানসুর আল ওতাইবি বলেন, ‘আমরা মিয়ানমার সরকারকে নতুন কিছু করতে বলছি না। দেশটি জাতিসঙ্ঘের সদস্য এবং জাতিসঙ্ঘের অনেক কনভেশনেরও সদস্য। শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।’

জাতিসঙ্ঘে নিয়োজিত পেরুর দূত গুস্তাভো মেজা-চুয়াদ্রা বলেন, ‘মূলত আমরা যে বার্তাটি দিতে চাইছি তা হলো, প্রত্যাবাসনকৃত শরণার্থীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়া এবং আন্তর্জাতিক সংগঠন বিশেষ করে জাতিসঙ্ঘের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করা। বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার আগে এখানে (মিয়ানমার) রোহিঙ্গাদের কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল তা নিয়ে তদন্ত করার গুরুত্ব উপস্থাপন করেছি আমরা।’

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫