সারাদিন কালবৈশাখীসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে

হামিম উল কবির

নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে। ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে। আজ সারাদিন রবীনদ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার এ ক’টি চরণ হয়তো অনেকেই আওড়াবেন। বৈশাখে মেঘে ভরা আকাশের গর্জন ও বজ্র বিদ্যুৎ হয়তো আজ দেখবেন অনেকে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ মোস্তফা কামাল পলাশ কানাডা থেকে জানিয়েছেন, আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে বাংলাদেশের আকাশের যে চিত্র দেখা গেছে তা পর্যবেক্ষণে বলা যায়, আজ সারা দেশে প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

একমাত্র রাজশাহীর আশপাশের কয়েকটি জেলা বাদে সারা দেশে সঞ্চালনশীল (কনভেকটিভ) মেঘের সৃষ্টি হওয়া শুরু হয়েছে। কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত চিত্রে বাংলাদেশের মানচিত্রের উপর যে সাদা-সাদা মেঘের ফোটা দেখা যাচ্ছে এই ধরনের মেঘকে আবহাওয়া বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয়ে থাকে পপ-কর্ণ মেঘ। বাংলাদের প্রেক্ষিতে আমরা মুড়ি/খই মেঘও বলতে পারি। এই নামকরণ করার কারণ হলো গরম বালুর মধ্যে ভুট্টা বা চাল ছেড়ে দিলে যেমন করে ভুট্টা বা চাল ফুটে ভুট্টা/ধানের খই বা মুড়ি তৈরি হয় একইভাবে ভূ-পৃষ্ঠে সকাল বেলার সূর্যের আলো পড়ার সাথে সাথে কনভেকটিভ মেঘের সৃষ্টি হতে থাকে। আর এই কনভেকটিভ মেঘ হলো বজ্রবৃষ্টি হওয়ার প্রধান শর্ত।

আজ মঙ্গলবার সকাল বেলায়ই ঢাকা, বৃহত্তর ফরিদপুর, যশোর, বরিশাল, ময়মনসিংহ, রংপুর, সিলেট, কুমিল্লা জেলার আশপাশের প্রতিটি জেলায় কনভেকটিভ মেঘের সৃষ্টি হওয়া শুরু হয়েছে। ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে ইতিমধ্যেই শক্তিশালী সঞ্চলণশীল মেঘের সৃষ্টি হয়েছে ও বজ্রপাত হচ্ছে। আগামী ১ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে উপরের প্রতিটি জেলায় বজ্রবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই প্রবল। আকাশে ঘন কালো মেঘ দেখলেই বা মেঘের প্রথম গর্জনটি শোনার পরে এক সেকেন্ডও দেরি না করে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করা উচিৎ। এই কালবৈশাখীর সময় বজ্রবিদ্যুৎ হতে পারে আজ। সাবধানে চলাফেরা না করলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মৃত্যুর কারণ হতে পারে বজ্রপাত।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.