ঢাকা, বুধবার,০১ এপ্রিল ২০২০

উপমহাদেশ

মুসলিম যুবককে ভালোবাসায় দিনের পর দিন অত্যাচার, বন্দীদশা থেকে শেষ ভিডিও বার্তা তরুণীর

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

০৮ মে ২০১৮,মঙ্গলবার, ১১:২৮ | আপডেট: ০৮ মে ২০১৮,মঙ্গলবার, ১১:৪১


প্রিন্ট
মুসলিম যুবককে ভালোবাসায় দিনের পর দিন অত্যাচার

মুসলিম যুবককে ভালোবাসায় দিনের পর দিন অত্যাচার

মুসলিম যুবককে ভালোবাসায় কেরালার এক হিন্দু তরুণীকে দুই বছর ধরে ঘরে বন্দী করে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি পুলিশ ওই তরুণীকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করার পর এই ঘটনা সবার সামনে আসে। ২৪ বছর বয়সী এই তরুণীর বাড়ি কেরালাতে হলেও কর্নাটকের মেঙ্গালুরু শহরে এক ভাড়া বাসায় বিজেপি কর্মীদের সহায়তায় তার মা তাকে বন্দী করে রাখেন।

অঞ্জলী প্রকাশ নামের এই তরুণীকে গত ১ মে কর্নাটকের মেঙ্গালুরু পুলিশ তার মায়ের বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করে। কেরালা পুলিশ থেকে বার্তা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ এ বিষয়ে উদ্যোগী হয়। তরুণীর মায়ের নাম ভিনেতা এবং তিনি ত্রিশুরের গুরুভায়ুর নামক জায়গার বাসিন্দা।

মেঙ্গালুরু পুলিশের ডিসিপি উমা প্রশান্ত বলেন, ‘অঞ্জলী প্রকাশকে তার মায়ের বন্দিদশা থেকে উদ্ধারের পর আদালতে পাঠানো হয়। তিনি তার মায়ের জিম্মায় যেতে অস্বীকার করার পর আদালত তাকে নিরাপদ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। তার মাকে আটক করা হয়েছে এবং এতে আর কারো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিওতে অঞ্জলী দাবি করেন, মেঙ্গালুরুর এক ভাড়া বাসায় বিজেপি কর্মীদের সহায়তায় তাকে আটকে রাখা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় বিজেপি কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানান ডিসিপি উমা প্রশান্ত।

উল্লেখ্য, সাহায্য চেয়ে অঞ্জলী একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশের পরই এই ঘটনা সবার সামনে আসে। এটাই তার শেষ বার্তা হতে পারে বলেও ভিডিওতে তিনি উল্লেখ করেন।

বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমার পালানো ছাড়া কোনো পথ নেই। কাল যদি আমার কোনো ক্ষতি হয়, তার জন্য আমার মা দায়ী থাকবে। একজন মুসলমানকে ভালোবাসার অপরাধে গত দুই বছর আমাকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। মানসিক রোগী বানিয়ে অমৃতা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য দুই মাস আমাকে ভর্তি রাখা হয়। তারপর আরো দুই মাস আমাকে আরএসএস পরিচালিত এক এতিমখানায় রাখা হয়। গত কয়েক মাস যাবৎ আমাকে মেঙ্গালুরুতে বন্দী রাখা হয়েছে। আমার বন্দী থাকার পেছনে বিজেপির পূর্ণ সমর্থনও রয়েছে। আমাকে অনেক কষ্ট দেয়া হচ্ছে। আমার বাইরে যাওয়ার কোনো অনুমতি নেই। আমাকে রক্ষা করতে কেউ এগিয়ে না আসায় ক্রমেই আমি নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছি।’

উদ্ধারের পর অঞ্জলী জানিয়েছেন, তিনি বাল্যবন্ধু নলাকাথ মানসকে ভালোবাসেন। নলাকাথের বয়স বর্তমানে ২৮ বছর এবং তিনি একটি পোলট্রি ফার্মের মালিক। ২০১৬ সালে অঞ্জলীর মা এই সম্পর্কের কথা জানার পর থেকে নির্যাতনের শিকার হন এবং তার পরপরই তাকে মানসিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অবশ্য অঞ্জলীর মায়ের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অঞ্জলীর চাচী জয়ন্তী বলেন, সে (অঞ্জলী) নির্যাতনের কথা আমাকে কয়েকবার বলেছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমি চাই অঞ্জলী পুলিশের হেফাজত থেকে বাইরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক। নিজের পছন্দের মানুষকে ভালোবাসার জন্য তার এমন শাস্তি পাওয়া উচিত নয়। সে একজন মেধাবী ছাত্রী এবং তার কোনো মানসিক সমস্যা নেই।’

আরেক তরুণীকে ধর্ষণের পর গায়ে আগুন

ভারতের পূর্বাঞ্চলের প্রদেশ ঝাড়খণ্ডে আবারো ধর্ষণের পর এক তরুণীর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে, ১৭ বছর বয়সী ওই তরুণীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধর্ষণ ও আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে স্থানীয় এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত আট দিনের মধ্যে ঝাড়খণ্ডে এ নিয়ে দুই তরুণীকে ধর্ষণের পর আগুন ধরিয়ে দেয়ার নৃশংস ঘটনা ঘটল। গত রোববার ঝাড়খণ্ডে এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় ধর্ষকেরা। এতে ঘটনাস্থলে পুড়ে মারা যান ওই কিশোরী। তবে এ দুই ঘটনার একটির সাথে অন্যটির সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঝাড়খণ্ড পুলিশ বলছে, ভারতে যৌন সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ দুই ঘটনা ঘটেছে। ঝাড়খণ্ডের সর্বশেষ এই ঘটনায় ওই কিশোরী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। তবে তার শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। পুলিশ কর্মকর্তা শৈলেন্দ্র বার্নওয়াল বলেন, ‘অভিযুক্ত যুবক আমাদের বলেছেন, তিনি ওই তরুণীকে বিয়ে করতে চাইতেন। কিন্তু ওই তরুণী প্রস্তুত ছিলেন না।’ শুক্রবার পাকুর জেলায় এক গ্রামে আত্মীয়র বাড়িতে ওই তরুণীর ওপর হামলা চালায় অভিযুক্ত যুবক। এই যুবক সেখানে তাদের পাশেই বসবাস করে। পুলিশের তথ্য বলছে, ওই তরুণীকে একা পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকে অভিযুক্ত যুবক। পরে ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে তরুণীকে ধর্ষণের পর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ওই তরুণীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫