ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৮ মে ২০২০

উপসম্পাদকীয়

বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসের দাবি : সবাইকে সচেতন হতে হবে

মো: মাকসুদ উল্যাহ্

১০ মে ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ। এটা autosomal recessive ধরনের। পিতা মাতা উভয়েই যদি এই রোগের বাহক হন তাহলে প্রতি গর্ভধারণে আগত সন্তান রোগী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ২৫ শতাংশ, বাহক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ৫০ শতাংশ আর স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ২৫ শতাংশ। বাহক কখনোই রোগে ভোগেন না। প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। পিতা-মাতা খুব বেশি সৌভাগ্যবান হলে তারা উভয়ে বাহক হওয়া সত্ত্বেও সন্তানেরা সবাই স্বাভাবিক বা বাহক হতে পারে। আর বাহক পিতা-মাতার সব সন্তান কাকতালীয়ভাবে রোগী হতে পারে।
পিতা-মাতার যেকোনো একজনমাত্র বাহক হলে সন্তানরা কখনোই রোগী হবে না। কিন্তু পিতা-মাতা উভয়ে বাহক হলে সব ধরনের দুশ্চিন্তার কারণ। কারণ সে েেত্র সন্তানদের কেউ কেউ রোগী হতে পারে। autosomal recessive ধরনের রোগ সাধারণত আত্মীয়দের মাঝে বিয়ে হলে হয়। কিন্তু একটি সমাজে এর বাহকের সংখ্যা বেড়ে গেলে তখন আত্মীয়ের বাইরে বিয়ে হলেও এ রোগ হতে পারে। জানা যাচ্ছে, আমাদের দেশে এই রোগের বাহক এবং তার ফলে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে! অতএব এখন থেকেই সাবধানতা জরুরি।
যখন কেউ রোগী হয় তখন সেই রোগটির নাম beta thalassaemia major (বিটা থ্যালাসেমিয়া মেজর)। আর বাহক হলে সেই অবস্থাটার নাম beta thalassaemia trait or beta thalassaemia minor (বিটা থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট বা বিটা থ্যালাসেমিয়া মাইনর)।
এ রোগ হলে রোগীকে সারা জীবন অন্যদের থেকে রক্ত গ্রহণ করে টিকে থাকতে হয়। এ ধরনের রোগীরা পিতা-মাতার বোঝা হয়ে থাকে এবং গড়ে ২৫-৩০ বছর বেঁচে থাকে। আর রক্ত গ্রহণের থাকে নানাবিধ ঝামেলা। শরীরে আয়রনের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে হৃৎপিণ্ড, লিভার, অগ্নাশয় বা গিরার রোগ হতে পারে। রক্ত গ্রহণের আগে সেটা পরীা করা সত্ত্বেও পরীার ফাঁক-ফোকরে দাতার শরীর থেকে বিভিন্ন প্রাণঘাতী জীবাণু ঢুকতে পারে রোগীর শরীরে। এ ছাড়াও নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনে আছে আরো বহু জটিলতা। এক দিকে থ্যালাসেমিয়া অন্য দিকে সেটার চিকিৎসার কারণে নতুন করে অন্যান্য অঙ্গের রোগ! কত কষ্ট! কত কষ্টের জীবন! অথবা রোগীকে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করতে হয়। সেটা করতে গিয়েও থাকে নানাবিধ নতুন রোগের ঝুঁকি। বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করতে ২৫-৩০ লাখ টাকা খরচ হয়। এটা করার কারণে কখনো কখনো রোগী বিভিন্ন জীবাণু দিয়ে সংক্রমিত হয়ে মারা যেতে পারে।
কিন্তু এসব ঝুঁকি এড়ানোর একটি কার্যকর উপায় হচ্ছে বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফরেসিস করানো। মূল্য আনুমানিক ১০০০ টাকা।
এ পরীা করে কেউ যদি দেখেন যে, তিনি একজন বাহক; তাহলে তিনি যেন কোনো অবস্থাতেই অন্য একজন বাহক বা রোগীকে বিয়ে না করেন। করলে কিন্তু সেই দুশ্চিন্তায় পেয়ে বসবে। সন্তানদের কেউ কেউ রোগী হতে পারে। সেটা হলে সারা জীবন সেই সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে দৌড়াতে হবে। অথবা বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের মতো জটিল এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসা করাতে হবে।
অনেকেই হয়তো বলবেন, ‘আমিতো বিয়ের আগে এই পরীা করাইনি, আমিতো ভালো আছি।’ এর উত্তর হচ্ছে সবার এমনটা হবে না। রোগীর চেয়ে বরং রোগীর পিতা-মাতা বেশি দুর্বিষহ জীবনযাপন করবেন।
কারণ, তারা আক্রান্ত সন্তানকে নিয়ে বছরের পর বছর গড়ে প্রতি মাসে হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করবেন! হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করে সময় পার করবেন, নাকি কর্মস্থলে গিয়ে পেটের ভাত জোগাড় করবেন, নাকি আক্রান্ত সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাবেন? তিন দিকে টানাটানি!
আমি ২০০৯ সালে এই কারণে হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফরেসিস করেছিলাম। ফলাফল স্বাভাবিক ছিল। যদিও সে সময় বিয়ের আগে এ ব্যাপারটি পরীা করে দেখার জন্য জাতীয় পর্যায়ে কোনো প্রচারণা ছিল না। কিন্তু সম্ভাব্য ঝুঁকি জানা থাকার কারণে হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফরেসিস পরীাটি করেছিলাম। আর যদি বিয়ের পর দেখা যায় যে, স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই এ রোগের বাহক, তাহলে গর্ভধারণের ১৬-১৮ সপ্তাহের মধ্যেই কোরিওনিক ভিলাস সেমপ্লিং, এমনিওসেন্টেসিস বা ফিটাল ব্লাড সেমপ্লিং পরীার মাধ্যমে জানা যাবে আগত সন্তান এ রোগের রোগী বা বাহক কি না। আগত সন্তান এ রোগের রোগী হলে, সে েেত্র ভ্রƒণ অপসারণের (থেরাপিউটিক এবরশন) সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেতে পারে। হ
লেখক : চিকিৎসক, ঢাকা মেডিক্যাল
কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫