ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৮ মে ২০২০

উপসম্পাদকীয়

দৃষ্টিপাত : মা-বাবার প্রতি অবহেলা নয়

১১ মে ২০১৮,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

যাদের লালনপালনে আজ আমরা এই পৃথিবী দেখতে পারছি, সেই বাবা-মা বা অভিভাবকদের প্রতি চরম অবহেলা প্রদর্শন করছি; এটা বড়ই মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। এটা আমাদের সমাজে আগে ছিল না, এখন শুরু হয়েছে। বাবা-মা যখন বয়স্ক-বৃদ্ধ হয়ে পড়েন তখন ছেলেমেয়েরা তাদের বোঝা হিসেবে মনে করে। অনেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের বাবা-মায়ের পরিচয় দিতে দ্বিধাবোধ করে। এতে বাবা-মা যে কত কষ্ট পান তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অনেকে নিজের কাছে বাবা-মাকে না রেখে গ্রামের বাড়ি অথবা কোনো বেসরকারি নিবাসে বা বৃদ্ধাশ্রমে রেখে দেয়। যখন বাবা-মায়ের সেবা করা জরুরি, আর বাবা-মা যখন বয়সের ভারে কোনো কাজ করতে পারেন না; তখন ছেলেমেয়েরা তাদের সাধারণত আর মর্যাদা দেয় না। আমাদের সমাজে এ ধরনের প্রবণতা আগে ছিল না। যেসব ছেলেমেয়েকে বাবা-মা উচ্চশিায় শিতি করেছেন, তারা বিদেশে চাকরি করার কারণে দেশে অবস্থানরত বাবা-মাকে দেখাশোনা করতে পারে না। তাই অনেক েেত্র তারা বাবা-মাকে বিদেশের মতো বৃদ্ধাশ্রমে অথবা বুয়াদের কাছে রেখে দেয়। মাসে প্রয়োজনীয় খরচ পাঠায় বা অনেকে তা-ও করে না। তবে ইদানীং দেশে অনেক পরিবারে কথিত শান্তি রার্থে স্ত্রী-ছেলে-মেয়েদের চাপে গৃহকর্তা বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিজের কাছে রাখার সুযোগ পান না। এটা অমানবিক। বাবা-মায়ের যদি সম্পদ থাকে; তাও অনেক েেত্র ছেলেমেয়েরা নিজেদের নামে লিখে নিয়ে বাবা-মাকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দিতে ভুলে যায়। আল্লাহ যেন শক্তি ও সুযোগ দেন, যাতে কোনো পরিবারে বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মাকে কেউ অবহেলা না করে। অন্যথায় তাদের পরিবারে কষ্ট ও দুঃখ কখনো দূর হয় না। সে বিষয়টি ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী, নাতি-নাতনীসহ পরিবারের সবাইকে আজ অনুধাবন করতে হবে। বাবা-মায়ের চেয়ে বড় কিছু আর নেই। তারা বহু কষ্ট করে আমাদের পালন করেছেন। কোনোভাবেই যেন তাদের মনে কষ্ট দেয়া না হয়। আসুন, যাদের বাবা-মা বেঁচে আছেন, তাদের যথাসাধ্য সেবাশুশ্রƒষা দেয়ার চেষ্টা করি। কারণ, এ পৃথিবীতে বাবা-মায়ের চেয়ে আপন ও শ্রদ্ধেয় আর কেউ নেই। নিজের সামর্থ্য থাকলে কোনোভাবেই যেন বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে না পাঠাই। বৃদ্ধ ও বয়স্ক লোকদের কেউ যেন কখনো অবহেলা বা অশ্রদ্ধা না করে, সেটা নিশ্চিত করার জন্য সমাজের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫