ঢাকা, মঙ্গলবার,০২ জুন ২০২০

উপসম্পাদকীয়

প্রশংসা করার কায়দাকানুন

সমকালীন প্রসঙ্গ

গোলাম মাওলা রনি

১১ মে ২০১৮,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

খুব উঁচুপর্যায়ের ভালো মানুষ না হলে আপনি অন্তর থেকে কাউকে প্রশংসা করতে পারবেন না। আবার নিজের বুদ্ধিমত্তা, রুচিবোধ ও পরিবেশ পরিস্থিতি অনুধাবন করার সামর্থ্য কাক্সিত মানের না হলে আপনার সুন্দর মনের নিরেট প্রশংসার ফলাফল ক্ষেত্রবিশেষে হিতে বিপরীত হতে পারে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আপনার জন্য ভয়াবহ বিপদ ও বিপত্তি ডেকে আনতে পারে। বিস্তারিত আলোচনার আগে প্রথমেই জেনে নেয়া উচিত, প্রশংসা ও ‘তেলবাজি’ এক নয়। চাটুকারিতা, অতিরঞ্জিত করে বলা কিংবা সত্যের সঙ্গে মিথ্যার মিশ্রণের মাধ্যমে কোনো দিন সত্যিকার প্রশংসা করা সম্ভব নয়। প্রশংসা একটি মহৎ কর্ম। অন্যসব সৎ কর্মের যেমন নীতি, আদর্শ ও উদ্দেশ্য থাকে, তেমনি প্রশংসা করারও নীতি, আদর্শ ও উদ্দেশ্য থাকতে হবে। অপরাপর শুভ কর্মের জন্য যেমন উপযোগী মন-মানসিকতা, বসন-ভূষণ, দিনক্ষণ ইত্যাদি প্রয়োজন; তেমনি প্রশংসা করার জন্যও আপনার শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি এবং সুন্দর একটি ক্ষণ বা সময় দরকার।
প্রশংসা করার আগে সতর্কতার জন্য কতগুলো বিষয় অবশ্যই ভেবে নেবেন। প্রথমত, কার প্রশংসা করতে চান এবং কিভাবে করতে চান, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আপনার উচিত ‘কেন’ শব্দটির মীমাংসা করা। অর্থাৎ কী কারণে প্রশংসা করতে চান। আপনি হয়তো কারো প্রতি নিজের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য অথবা কারো কর্মে সন্তুষ্ট হয়ে; নতুবা নেহায়েত ভালো লাগা থেকে কারো প্রশংসা করে থাকেন। হয়তো কখনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে প্রশংসা করেন, আবার ব্যক্তিকে না জানা সত্ত্বে¡ও তার কর্ম বা কোনো সৃষ্টিকে উদ্দেশ করে প্রশংসা করে থাকেন। কোনো প্রশংসায় আপনার স্বার্থ জড়িত আবার কখনো কখনো যার প্রশংসা করা হয় তার স্বার্থও জড়িত থাকতে পারে। এমন ঘটনাও ঘটতে দেখা যায়, যেখানে প্রশংসা করার কারণে আপাতদৃষ্টিতে কারো স্বার্থ জড়িত থাকে না বটে, কিন্তু প্রশংসার কারণে সমষ্টিগতভাবে অনেকের উপকার হতে পারে।
প্রশংসা হলো এমন কথা, কাজ, অঙ্গভঙ্গি অথবা অভিব্যক্তি, যার মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তির কথা, কর্ম, আচরণ, সৃষ্টি, মতামত, দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদিকে ইতিবাচক অর্থে সমর্থন জানানো হয়। এখানে ‘ইতিবাচক’ শব্দটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থাৎ কারো মন্দকর্মের কোনো দিন প্রশংসা করা যায় না; কোনো নেতিবাচক বিষয়ের জন্য ‘প্রশংসা’ কথাটি প্রযোজ্য নয়। কেবল ভালো কর্ম, যা কেবল ব্যক্তির স্বার্থ ছাপিয়ে সর্বসাধারণের কাজে লাগে বা কাজের প্রেরণা জোগায় অথবা যেসব কর্মের কারণে মন্দকর্ম বাধাপ্রাপ্ত হয়; সেগুলোর জন্য প্রশংসা প্রাপ্য। বিভিন্ন ধর্মমতে প্রশংসার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে মুসলমানদের ঐশী গ্রন্থ আল কুরআনের সূরা ফাতিহার প্রথম চারটি শব্দ আমার কাছে সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হয়। কেউ যদি মনোযোগসহ ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’, অর্থাৎ ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নিখিল জাহানের রব’ কথাটা ব্যাখ্যা করেন, তবে কাকে কখন কিভাবে প্রশংসা করতে হবে, তার ধারণা পেয়ে যাবেন। অধিকন্তু প্রশংসা কত প্রকার ও কী কী এবং কোথায় কিরূপ প্রশংসাবাক্য ব্যবহার করা উচিত, সে ব্যাপারেও স্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারবেন।
‘আলহামদু’ শব্দের বিস্তারিত ব্যাখ্যায় যাওয়ার আগে এ কথা বলে রাখা ভালো, আমরা যেমন স্রষ্টার প্রশংসা করি; তেমনি তার সৃষ্টির প্রশংসাও করে থাকি। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, নিয়োগকর্তা, পছন্দের মানুষ প্রমুখের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হওয়ার পাশাপাশি ক্ষেত্রবিশেষে আমাদের অধীনস্থ, অনুগত, অনুসারী, পোষ্য ও সন্তানসন্ততি, আত্মীয়-পরিজন, বন্ধুবান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীর প্রশংসাও করে থাকি। আকাশ-বাতাস, পাহাড়-সমুদ্র, জীব-জানোয়ার, ফুল-ফল-লতাগুল্ম প্রভৃতি প্রাকৃতিক সৃষ্টির প্রশংসা যেমন করি; তেমনি সুর, তাল-লয়, সঙ্গীত, কবিতা, স্থাপত্য-শিল্পকলার পাশাপাশি লেখক কবি-সাহিত্যিক, সঙ্গীতশিল্পী, চিত্রশিল্পী, বিজ্ঞানী গবেষক প্রমুখের প্রশংসা করে থাকি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমরা কোনো কিছু না ভেবে কিংবা পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই হঠাৎ উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠি এবং প্রশংসা শুরু করে দেই। প্রশংসার মাত্রাজ্ঞান, ধরন ও প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত চিন্তাভাবনা করে প্রশংসা করেন, এমন লোকের সংখ্যা নগণ্য। অথচ আপনি যদি একটু সতর্ক হন এবং ভেবেচিন্তে প্রশংসা করেন, তবে আপনার কর্মটি কেমন নান্দনিকতাপূর্ণ হতে পারে; তা পবিত্র কুরআনের ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ শব্দমালার ব্যাখ্যার মধ্যে পেয়ে যাবেন।
আরবিতে সচরাচর ‘হামদ’ শব্দটি যেভাবেই ব্যবহৃত হোক না কেন, বাংলায় আমরা সব সময় সেটিকে প্রশংসা হিসেবে ধরে নেই। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ‘হামদ’ দ্বারা কেবল প্রশংসা বোঝায় না। হামদের অর্থ আরো বিস্তৃত ও ব্যাপক। সাধারণত যেসব প্রশংসার ক্ষেত্রে একই সাথে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রযোজ্য, সেসব ক্ষেত্রে কেবল হামদ ব্যবহৃত হয়। অন্য দিকে, আপনি যদি শুধু ধন্যবাদের জন্য প্রশংসা করতে চান, তবে সর্বোত্তম আরবি শব্দ হলো ‘মাধু’। আর কেবল কৃতজ্ঞতার জন্য উত্তম শব্দ হলো ‘শুকর’। এখন প্রশ্ন হলোÑ আল্লাহ তায়ালা কেন তার সব প্রশংসা ও সব কৃতজ্ঞতা বুঝানোর জন্য ‘আলমাধুলিল্লাহ ওয়া শুকরিল্লাহ’ ব্যবহার না করে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ব্যবহার করলেন? দ্বিতীয়ত, আলহামদুলিল্লাহর পর আল্লাহ কেন তার ৯৯টি গুণবাচক নামের মধ্যে ‘রব’ শব্দটি ব্যবহার করেছে এবং রবের সাথে ‘আলামিন’ শব্দ জুড়ে দিলেন? সবশেষে, এসবের মধ্যে প্রশংসা করার ধরন-প্রকৃতিতে কী এমন হিকমা বা কৌশল রয়েছে, যা থেকে চিন্তাশীলরা শিক্ষা লাভ করতে পারেন?
শুরুতে আমরা অতি সংক্ষেপে আলহামদুলিল্লাহ, রব ও আলামিনÑ এ তিনটি শব্দের অর্থ, অন্ত্যমিল ও তাৎপর্য সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব। ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দের দ্বারা আল্লাহ তার নিজের জন্য এমন এক ধরনের প্রশংসার কথা বলেছেন, যা কেবল তার জন্যই প্রয়োজ্য। কোনো বান্দা-বান্দি কিংবা অন্য কোনো সৃষ্টির জন্য ‘আলহামদুলিল্লাহ’ প্রযোজ্য হতে পারে না। আমরা আলহামদুলিল্লাহ বলার মাধ্যমে মূলত আল্লাহর প্রশংসা করি, যার মাধ্যমে দুটো অন্তর্নিহিত শর্ত পূরণ হয়ে যায়Ñ অর্থাৎ আমরা প্রশংসার মাধ্যমে তাকে ধন্যবাদ এবং একই সঙ্গে কৃতজ্ঞতা জানাই। এখানে যদি আলহামদুলিল্লাহর পরিবর্তে মাধুলিল্লাহ এবং শুকরিল্লাহ ব্যবহৃত হতো, তাহলে সে ক্ষেত্রে বিতর্ক করার সুযোগ থাকত। মাধু শব্দের পর ‘ওয়া’ অর্থাৎ ‘এবং’ যোগ করে শুকর শব্দ বসালে যে অর্থ দাঁড়ায় তা ইংরেজি কম্পাউন্ড বা যৌগিক বাক্যের মতো অর্থ বহন করত, যার মাধ্যমে যে কেউ অনায়াসে বলতে পারতেন, কিছু প্রশংসার জন্য আল্লাহকে ধন্যবাদ এবং কিছুর জন্য কৃতজ্ঞতা। ঠিক যেমনটি হয়ে থাকে আমাদের সমাজে স্বাভাবিক প্রশংসা করার ক্ষেত্রে। কয়েকটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
আমরা সচরাচর এমন প্রশংসা করি, যার সঙ্গে সাধারণত কৃতজ্ঞতার সম্পর্ক থাকে না। ধরুন, রাস্তায় চলতে গিয়ে আপনি চমৎকার একটি রোলস রয়েস গাড়ি দেখলেন। উচ্ছ্বসিত হয়ে বলে উঠলেনÑ বাহ, কী চমৎকার গাড়ি! এ ক্ষেত্রে গাড়িটির প্রশংসা করলেন; কিন্তু কোনোক্রমেই আপনি এ কথা বলেন না যে, উফ রোলস রয়েস কতই না সুন্দর এবং আমি এ কারণে রোলস রয়েসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। প্রশংসার মধ্যে কৃতজ্ঞতাহীন ধন্যবাদ নিয়ে আরো একটি উদাহরণ দিতে চাই। ধরুন, আপনার প্রতিবেশী ভদ্রমহিলার একটি নবজাতক সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো। শিশুটিকে দেখে বলে উঠলেনÑ বড়ই চমৎকার এবং সুন্দর একটি শিশু। আপনি এ কথা কোনো দিন বলেন না যে, শিশুটি অনেক সুন্দর হয়েছে এবং এমন একটি শিশু প্রসব করার জন্য তার গর্ভধারিণী মায়ের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনি যদি ভুলক্রমে কিংবা বেখেয়ালে শিশুর মায়ের প্রশংসা করতে গিয়ে আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের চেষ্টা করেন, তবে কী ধরনের সামাজিক সমস্যা দেখা দিতে পারে, তা বোধ হয় বিস্তারিত খুলে বলার দরকার পড়বে না।
এবার প্রশংসাবিহীন ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা কী এবং কেমন, তা বুঝানোর জন্য পবিত্র কুরআনের দু’টি ঘটনা উল্লেখ করছি। প্রথম ঘটনাটি হজরত মূসা আ:-এর। তিনি যখন নবুওয়াতপ্রাপ্ত হয়ে আল্লাহর একত্ববাদের প্রচারের জন্য আল্লাহর হুকুমে ফেরাউনের রাজদরবারে গেলেন, তখন কিছু বিষয় নিয়ে ফেরাউনের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়ে যায়। ফেরাউন বিরক্ত হয়ে বলেÑ ‘হে মূসা, আমরা কি তোমাকে আশ্রয় দিয়ে লালনপালন করিনি! তুমি কি বহু বছর আমাদের মাঝে থেকে বেড়ে ওঠনি? তুমি কি এ জন্য আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ নও?Ñ উত্তরে হজরত মূসা আ: বলেছিলেন, ‘সেটা তো ছিল আমার প্রতি আপনার একটি অনুগ্রহ, যার জন্য আমি অবশ্যই কৃতজ্ঞ এবং আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ হজরত মূসা আ:-এর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন দ্বারা অবশ্যই ফেরাউনের প্রশংসা বোঝাবে না। একইভাবে, হজরত ইব্রাহিম আ: তাঁর মূর্তিপূজারী পিতার প্রতি কৃতজ্ঞ ছিলেন, কিন্তু কোনোভাবেই পিতার প্রশংসা করেননি।
আলোচনার এই পর্যায়ে রব এবং আলামিন শব্দের যথার্থতা নিয়ে কিছু বলা আবশ্যক। ‘রব’ বলতে আমরা পালনকারী, রিজিকদাতা, পদ-পদবি ও সম্মানদাতাকে বুঝি। রাব্বিল আলামিন বলতে তামাম বিশ্বজাহানের রব বা প্রভু হিসেবে আল্লাহর একক কর্তৃত্ব, ক্ষমতা, দান ও দয়া করার অবারিত ক্ষমতা ও কর্তৃত্বকে বোঝায়; যার জন্যই কেবল ‘আলহামদু’ শব্দটি প্রযোজ্য। আলহামদুর মৌলিকত্ব, পবিত্রতা ও যথার্থতার সাথে মাধু এবং শুকর শব্দের তুলনা চলে না। কারণ, চাটুকারিতা কিংবা বাধ্য হয়ে কারো প্রশংসা করার ক্ষেত্রে মাধুু ও শুকর ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিন্তু কোনোক্রমেই ‘হামদ’ ব্যবহৃত হয় না। আমরা অনেক সময় বাধ্য হয়ে কিংবা ফাঁদে পড়ে কারো প্রশংসা করে থাকি। ধরুন, গভীর রাতে ঘুম থেকে জাগিয়ে পুলিশ আপনাকে থানায় ধরে নিয়ে গেল। বহুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে কোনো কিছু না বলে আপনাকে ছেড়ে দিলো। আপনি থানা থেকে ফিরে আসার সময় পুলিশ কর্র্মকর্তাকে বললেন, ধন্যবাদÑ আমাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনার এ ধরনের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতার জন্য অবশ্যই হামদ শব্দটি ব্যবহৃত হবে না। এ ক্ষেত্রে মাধু ও শুকর শব্দ দ্বারা আপনার বিরক্তিমিশ্রিত এবং একান্ত বাধ্য হয়ে করা প্রশংসা বোঝানো যেতে পারে।
শিরোনাম প্রসঙ্গে কিছু বলে সরাসরি উপসংহারে চলে যাচ্ছি। আপনি সব প্রশংসা সবাইকে করতে পারেন না। নিজের অজান্তে কিছু প্রশংসা করতে গিয়ে হয়তো অসাবধানতাবশত নিজের ক্ষতি করে ফেলতে পারেন। আবার প্রশংসার কারণে আপনি নিজে এবং যার প্রশংসা করলেন তাকেও গুনা হতে জড়িয়ে ফেলতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনি নিজের হক, অন্য সৃষ্টির হক এবং ক্ষেত্রবিশেষে আল্লাহর হক নষ্ট করে গুনাহগার হয়ে পড়তে পারেন। সূরা ফাতিহার প্রথম চারটি শব্দের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য হলোÑ সকল প্রশংসা মৌলিকভাবে আল্লাহর জন্য প্রযোজ্য। অন্য দিকে, অন্য কারো প্রশংসা করতে গিয়ে আপনি প্রথমেই খেয়াল রাখবেন যাদের দ্বারা উপকৃত হয়েছেন বা হচ্ছেন তাদের ব্যাপারে। আপনার প্রশংসার কারণে যেন মানুষের মধ্যে ভালো কাজ করার আগ্রহ সৃষ্টি হয় এবং মানুষ তার ভালো কাজের স্বীকৃতি পেয়ে আনন্দিত হতে পারে। যিনি আপনার নিয়োগকর্তা অর্থাৎ মহান প্রভু, যার মাধ্যমে বা অছিলায় আপনাকে পদ-পদবি প্রদান করা হলো এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন যিনি, তার প্রশংসা করার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত বোঝানোর জন্য মহান আল্লাহ ‘আলহামদুলিল্লাহ’র পর তার গুণবাচক নাম ‘রব’ ব্যবহার করেছেন বলে অনেকে মনে করেন; যদিও এ ব্যাপারে আল্লাহই ভালো জানেন।
আমরা যদি প্রশংসার বিধিবিধান তথা ব্যাকরণ মেনে যার জন্য যেরূপ প্রযোজ্য, সেরূপ প্রশংসা করতে পারি, তবে দুনিয়া ও আখিরাতের অফুরন্ত নিয়ামত, মান-মর্যাদা ও সফলতার পাশাপাশি সুখ-শান্তি, সচ্ছলতা আমাদের জন্য অবারিত হয়ে যাবে।
পাদটীকা : লেখক পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা-মদিনা সফরে থাকার কারণে আগামী রমজান মাসে তার কোনো নিবন্ধ ছাপা হবে না। পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর যথারীতি লেখকের নিবন্ধ নয়া দিগন্তে প্রকাশিত হবে ইনশাআল্লাহ।হ
লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫