ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৮ মে ২০২০

উপসম্পাদকীয়

দৃষ্টিপাত

অধূমপায়ীরাও নিকোটিনের বিষে আক্রান্ত হচ্ছে

প্রকৌশলী সাব্বির হোসেন

১২ মে ২০১৮,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সামাজিক এক ব্যাধির নাম ধূমপান, যা সমাজকেই কলুষিত ও বিপন্ন করছে প্রতিনিয়ত। ঘর থেকে শুরু করে জনপথ, পরিবহন, কিংবা অফিসের এসি রুম কোনোটিই রেহাই পাচ্ছে না এর বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে। হরহামেশাই মানুষ বিরক্ত হলেও প্রতিবাদ করছে না যদি ধূমপায়ীরা তার ক্ষতি করে এই মনে করে। আর এই সুযোগে শিশু কিংবা মহিলাদেরও ছাড় না দিয়ে সমাজের অভদ্র লোকগুলো প্রকাশ্যে ধূমপান করে ধোঁয়া ছেড়ে দিচ্ছে তাদের অভিমুখে। ধূমপান না করেও অনেক নারী ও শিশু আক্রান্ত হচ্ছে ফুসফুসের সংক্রমণসহ নানা রোগে। দেশে ধূমপান নিয়ন্ত্রণ আইন আছে, নেই নির্মূল আইন। যতখানি আইনÑ নেই তার প্রয়োগ। আর এই আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যায় মাদকের সাথে সম্পৃক্ত অপরাধী। তামাকপণ্যের কারবারি ও ব্যবহারকারীসহ নেশাগ্রস্তদের দল ভারী, তাই নিরুপায় সাধারণ মানুষ। দু-একজন মৃদু প্রতিবাদ করেন। পাবলিক প্লেসে ধূমপান করতে নিষেধ করলেও তাতে কর্ণপাত করেই না ধূমপায়ীরা। অথচ সাধারণ মানুষ এক হতে পারলে অন্তত নিকোটিনের বিষাক্ততা থেকে রক্ষা করা যেত বিশেষত নারী ও শিশুদের। পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় করেছে সরকার।
তবু কেন নির্বিকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা? ধূমপানের জন্য এ পর্যন্ত শাস্তি পেতে হয়েছে নগণ্যসংখ্যক ব্যক্তিকে। তা হলে এমন আইন দিয়ে কী উপকার হবে নাগরিকদের? ইজিবাইকেও ধূমপান করে ধূমপায়ীরা। গাদাগাদি করে নয়জন বসে একটি ইজিবাইকে।
ভাবুন, দু’জন যদি দু’টি সিগারেট টানতে থাকে এ অবস্থায় তা হলে বাকিদের কী অবস্থা হবে? অধূমপায়ীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলেও যেন কিছুই করার নেই। ধূমপায়ী লোকগুলো বলে, প্রাইভেট কারে চলুন; এই গাড়িতে কেন এসেছেন? অর্থাৎ এখানে ধূমপান চলবেই! মর্মাহত হওয়া ছাড়া কিছুই করার থাকে না সাধারণ মানুষের।
প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে যানবাহন ও পাবলিক প্লেসে ধূমপান রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুন। যতটুকু আইন আছে তা বাস্তবায়ন করুন এবং আইনের সংশোধন প্রয়োজন হলে তা করুন। যে করেই হোক, শিশু, যুবসমাজ ও নারীদের ধূমপানের বিষাক্ত প্রভাব থেকে রক্ষা করতে হবে। ধূমপানমুক্ত একটি পরিশুদ্ধ পরিবেশ এবং মাদকমুক্ত আগামী প্রজন্মের প্রত্যাশা দেশবাসীর।
শ্রীপুর, গাজীপুর

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫