দৃষ্টিপাত : ভোটার আইডি কার্ড কতটা কাজে লাগে

নাসির উদ্দীন মুন্সী

বিগত ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশন দেশব্যাপী ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির কাজ শেষ করে। তারপর দেশের জনগণের কাছে আইডি কার্ড হস্তান্তর করে। দেশের ১৮ বছরের সব নাগরিক ভোটার আইডি কার্ড পেয়েছেন। তখন কথা ছিল, ভোটার আইডি কার্ডটি শুধু যেকোনো নির্বাচনে একজন কার্ডহোল্ডার ভোট দিতে পারবেন। একজনের ভোট অন্য কোনো ব্যক্তি আর দিতে পারবে না। কিন্তু ভোটার কার্ড থাকা সত্ত্বেও একজনের ভোট অন্য একজন দিচ্ছে। বিভিন্ন পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়েছে। আমি নিজে রাজধানী মানিকনগরের ভোটার। গত সংসদ নির্বাচনে এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমি ভোট দিতে পারিনি। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখি, আমার ভোট অন্য কোনো ব্যক্তি দিয়ে দিয়েছে। এই হলো ভোটার আইডি কার্ডের ভোটারের ভোটের চিত্র। আবার জাতীয় পরিচয়পত্র দ্বারা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সিম নিবন্ধন, চাকরির আবেদনপত্রেও ভোটার আইডি কার্ড চাওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ভোটার আইডি কার্ড দ্বারা একজন নাগরিকের পরিচয় সহজে পাওয়া যায় এবং কেউ অপরাধ করলে তাকে শনাক্ত করা যায়। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলোÑ ভোটার আইডি কার্ড জাতীয় পরিচয়পত্র হতে পারে না। কারণ, একজন নাগরিকের পরিচয় শনাক্ত করার দায়িত্ব বা প্রত্যয়নপত্র দেয়ার ক্ষমতা রাখেন কোনো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশনের মেয়র বা কাউন্সিলর। ভোটার আইডি কার্ড কখনো জাতীয় পরিচয়পত্র হতে পারে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ইবনে মাসুদ, তার জন্মস্থান চট্টগ্রাম। তিনি রাজধানীর মুগদাপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাসের সময় ২০০৮ সালে ভোটার হন। ভোটার হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন ফরমে তার স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার না করে শুধু ঢাকার মুগদাপাড়ার ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। ২০১০ সালে তিনি রাজধানী ছেড়ে অন্য কোনো শহরে চলে গেছেন। তিনি যদি জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে সিম নিবন্ধনসহ অন্য যেকোনো কাজ করেন, তাহলে তাকে কিভাবে সম্ভব শনাক্ত করা? তাকে শনাক্ত করতে তার নিজ এলাকার চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র অবশ্যই লাগবে। সব ক্ষেত্রে ভোটার আইডি কার্ডের সাথে চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র বাধ্যতামূলক করার জন্য অনুরোধ করছি। সর্বোপরি নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি নিয়ে জাতির সামনে ব্যাখ্যা দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.