ঢাকা, শুক্রবার,২৯ মে ২০২০

রাজনীতি

আজ জামিন পাবেন খালেদা জিয়া?

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৫ মে ২০১৮,মঙ্গলবার, ০৭:২৪


প্রিন্ট
আজ জামিন পাবেন খালেদা জিয়া?

আজ জামিন পাবেন খালেদা জিয়া?

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আপিলের রায় আজ মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে। আপিল বিভাগের এ দিনের কার্যতালিকায় খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে দায়ের করা আপিলগুলো রায়ের জন্য তিন নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। আপিল বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।
এর আগে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে গত ৯ মে আপিল বিভাগ রায়ের জন্য ১৫ মে দিন নির্ধারণ করেন।

এ আপিলের শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইজীবীরা আদালতে বলেছিলেন, আমাদের বিচারব্যবস্থায় শতকরা ৯৯.৯৯ ভাগ মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিলে আপিল বিভাগ হস্তক্ষেপ করেননি। তারা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, প্রতিপক্ষ একটি মামলাও দেখাতে পারবে না যেখানে হাইকোর্ট জামিন দেয়ার পর আপিল বিভাগ হস্তক্ষেপ করেছেন। অন্য সব মামলার থেকে এ মামলা আলাদা করে এনে দ্রুত বিচার করার চেষ্টা করছে রাষ্ট্রপক্ষ। আমরা মানি বা না মানি গোটা রাষ্ট্রকে এই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। এটা এক ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা, যা বিচার প্রশাসনে হস্তক্ষেপের শামিল। এতে সারা দেশে আইনজীবীদের মধ্যে এমন একটা ধারণা জন্মেছে যে, কোনো মামলায় জামিন হবে কী হবে না, সেটা নির্ভর করছে বিশেষ ক্লিয়ারেন্স আছে কি না, সেটার ওপর।

আইনজীবীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা হাইকোর্ট বাতিল করেছেন এবং সে রায়ের তার বিরুদ্ধে দুদক বা রাষ্ট্র দাঁড়ায়নি। সরকারদলীয় অনেক নেতার বিরুদ্ধেই মামলায় হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্র আপিল করেনি। কিন্তু এই একটা মামলায় সরকার এবং দুদক বেছে নিয়েছে। সরকার এটা করে আদালতের ঘাড়ে বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। তারা বলেন, এক দেশে দুই রকম আইন হয় না। দুই রকম অ্যাকশনও হয় না। সরকারি দলের ক্ষেত্রে এক রকম আর বিরোধীদের ক্ষেত্রে আরেক রকম আচরণ করা হচ্ছে।
আইনজীবীরা বলেন, আদালতের জন্য মানুষ না, মানুষের জন্য আদালত। সুতরাং, সব কিছুই আদালতকে দেখতে হবে। বইপত্র ছাড়াও আপনাদের আরেকটি চোখ আছে, বিবেক আছে, মন আছে-এসব কিছু দিয়ে বিচার করতে হয়। এই আদালতের মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের। আমাদেরও দায়িত্ব আছে আপনাদের সহায়তা করার। এ অবস্থায় সরকারের স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করা ঠিক হবে না। এই কোর্ট ছাড়া আমাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের লিভ টু আপিল এবং খালেদা জিয়ার জামিন বহাল চেয়ে তার পক্ষে দায়ের করা আপিল আবেদনের ওপর গত ৮ ও ৯ মে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
গত ১৯ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সাথে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পরপরই বেগম খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে গ্রেফতার করে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন কারাগারে আছেন। এ মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর চার আসামিকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এরপর গত ২০ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে আপিল দায়ের করা হয়। এরপর গত ১২ মার্চ চারটি যুক্তি আমলে নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন। চারটি যুক্তি আমলে নিয়ে খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন হাইকোর্ট। আদালত বলেন, আদেশ দেয়ার সময় আমরা যেসব বিষয় বিবেচনা করেছি সেগুলো হলো- এক. সাজার পরিমাণ (বিচারিক আদালতে তাকে যে স্বল্প মেয়াদের সাজা দেয়া হয়েছে)। দুই, মামলাটির বিচারিক আদালতের নথি এসেছে এবং এটি আপিল শুনানির জন্য পেপার বুক তৈরি হয়নি। তিন. বিচারিক আদালতে মামলা চলাকালে তিনি নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়েছেন, তিনি জামিনে ছিলেন এবং জামিনের অপব্যবহার করেননি এবং চার. তার বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতার বিষয় বিবেচনা করা হলো। তিনি ৭৩ বছর বয়স্ক একজন নারী এবং দীর্ঘ দিন ধরে নানা রোগে আক্রান্ত। এসব বিবেচনা করে তাকে চার মাসের জামিন দেয়া হলো।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫