Naya Diganta

উপগ্রহ তৈরি করবে পাকিস্তান, ব্যয় হবে ৪৭০ মিলিয়ন ডলার

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০৮ মে ২০১৮,মঙ্গলবার, ১০:২৬


উপগ্রহ তৈরি করবে পাকিস্তান, ব্যয় হবে ৪৭০ মিলিয়ন ডলার

উপগ্রহ তৈরি করবে পাকিস্তান, ব্যয় হবে ৪৭০ মিলিয়ন ডলার

সামরিক ও বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীলতা কাটাতে উপগ্রহ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের নিজস্ব মহাকাশ সংস্থা স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমোস্ফেয়ার রিসার্চ কমিশন বা সুপারকো ২০১৮-১৯ সময়কালে ৪০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বাজেট পাচ্ছে।

এই পরিকল্পনায় ইসলামাবাদ, করাচি ও লাহোরে পাকিস্তান মাল্টি-মিশন স্যাটেলাইট-সংক্রান্ত মহাকাশ কেন্দ্র এবং করাচিতে একটি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রায় ২২ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। এই তিন প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয় হবে ৪৭০ মিলিয়ন ডলার।

বর্তমানে পাকিস্তানের যোগাযোগ উপগ্রহ পাকস্যাট-১আর পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে উৎক্ষেপণ করেছে চায়না গ্রেটওয়াল ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন, ২০১১ সালে। চীনের বেইদো উপগ্রহ ব্যবস্থায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে।

লেখক, বিশ্লেষক ও ইসলামাবাদে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে ব্রায়ান ক্লুগলে বলেন, মার্কিননির্ভর উপগ্রহ কর্মসূচি থেকে বের হয়ে আসা প্রতিটি দেশের জন্যই অপরিহার্য। অবশ্য এটি করার জন্য অনেক সময় চীনারা সহায়তা করে থাকেন।

তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদি উপগ্রহ উন্নয়ন চুক্তি রয়েছে। তুরস্ক সম্প্রতি নিজস্ব পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ কর্মসূচি চালু করেছে। ব্রায়ান ক্লুগলে বলেন, পাকিস্তান উদ্যোগ গ্রহণ করলেও এর ফল পেতে তাদের বেশ অপেক্ষা করতে হবে। এ কারণে চীনের ওপর পাকিস্তানের নির্ভরতা বাড়বে।

পাকিস্তানে আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে চীন

পাকিস্তানে যেভাবে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে তাতে আগামী দিনে আমেরিকাকেও ছাড়িয়ে যাবে চীন। চীনের ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড’ বাণিজ্যিক রুটের জন্যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার যাচ্ছে পাকিস্তানে। তাদের পরিকাঠামোকে আরো চাঙ্গা করতেই এহেন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

আমেরিকা ও পাকিস্তানের মধ্যেকার সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষাপটে চীন ২০ কোটি জনসংখ্যার প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রমশ সম্পর্ক জোরদার করছে। আর এজন্যে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) নির্মাণের জন্য প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও অর্থায়নের মাধ্যমে এই নতুন মাত্রার সূচনা ঘটে।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, পাকিস্তানে প্রত্যক্ষ মার্কিন বিনিয়োগ ২০১৩ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০৫ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে প্রতিবেশী চীন থেকে এসেছে ১.৮২ বিলিয়ন ডলার। পাকিস্তানের অর্থনীতিতে প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থায় নিয়ে যেতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে চাঙ্গা করার এই পরিকল্পনাটি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের।

চীন রেল, বন্দর ও মহাসড়কের মাধ্যমে মধ্য এশিয়া ও ইউরোপে বাণিজ্যে জোয়ার সৃষ্টির লক্ষ্যে সিল্ক রোড নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। চীন তার প্রতিবেশী পাকিস্তানে তার অবস্থান ক্রমাগত জোরদারও করছে। গত তিন বছরে রেকর্ড ৭৭টি চীনা কোম্পানি পাকিস্তানে ঘাঁটি তৈরি করেছেন। এমনকি, পাকিস্তানের একাধিক সংস্থায় টাকা ঢালছে চীন। এমনকি, পাকিস্তান রেল থেকে বিদ্যুৎ খাতে কয়েক কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে চীন। চীন যেভাবে পাকিস্তানের মাটিতে বিনিয়োগ করছে তাতে পাকিস্তানের মাটিতে ক্রমশ আধিপত্য কমছে আমেরিকার।

অন্যদিকে, চীন যেভাবে পাকিস্তানের মাটিতে আধিপত্য বাড়াচ্ছে তাতে উদ্বেগ বাড়ছে ভারতেরও। কারণ, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পাশে যে চিন এসে দাঁড়াবে সেটাই স্বাভাবিক।

Logo

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,    
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫