Naya Diganta

ইসলামবিদ্বেষের ছায়ায় দেখা

মাল্টিকালচারালিজম বনাম অ্যাসিমিলিয়েশন

গৌতম দাস

২১ ডিসেম্বর ২০১৫,সোমবার, ০০:০০


আইএস কারা, কোথা থেকে এসেছে; কী ধরনের মানুষ আইএস সংগঠনে এসে যোগ দিচ্ছেÑ এ নিয়ে পশ্চিমা সমাজগুলোতে, বিশেষত ইউরোপের দেশগুলোতে পরিচালিত সামাজিক গবেষণার শেষ নেই। কী ধরনের মানুষেরা বিশেষ করে আইএস সংগঠনে যোগ দিচ্ছে, এ বিষয়ে প্রচলিত ধারণাগুলো মিথ্যা দাবি করে আমেরিকান দ্বিমাসিক জার্নাল, চলতি ডিসেম্বরে প্রকাশিত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সংখ্যা ‘ফরেন অ্যাফেয়ার্স’ এক রিপোর্ট করেছে। যারা পশ্চিমা নেতা ও দেশ চালান, নীতিনির্ধারকÑ এমন গুরুত্বপূর্ণ লোকদের চিন্তা ও পাঠের জন্য জরুরি হচ্ছে এই জার্নাল, বলে মনে করা হয়। যেমন হিলারি কিনটন ওবামা সরকারের সেক্রেটারি অব স্টেট থাকা অবস্থায় এখানে লেখা ছাপিয়েছেন। আলোচ্য আর্টিকেলটা লিখেছেন ভারতে জন্ম নেয়া ব্রিটিশ নাগরিক কেনন মালিক।
লেখক কেনন মালিকÑ মানুষ কেন সন্ত্রাসবাদী ভাবাদর্শ আপন করে নেয়, এ বিষয়ে প্রচলিত চারটা তত্ত্বে¡র কথা তুলেছেন। তিনি বলছেন, সেগুলো হলো, ‘প্রথম তত্ত্ব বলেÑ লোকে জঙ্গি হয় কারণ তারা ধর্মীয় ও জঙ্গিবাদী ভাবাদর্শের নাগালে আসে ও তা লাভ করে, তাই। দ্বিতীয় তত্ত্ব বলে, অন্যান্য জঙ্গিবাদী ভাবাদর্শ সাধারণত যেভাবে মানুষে অর্জন করে, তা থেকে ভিন্নভাবে এরা ভাবাদর্শ লাভ করে। তৃতীয় তত্ত্ব বলে, এটা যেন ভারী কিছুকে যান্ত্রিকভাবে বইবার এক কনভেয়ার বেল্ট, যার শুরু হয় মানুষের ােভ-অসন্তোষ ওই বেল্টের ওপর উঠে বসা থেকে। এরপর তা এক ধর্মভাবের ভেতর দিয়ে পার হয়ে এমন এক রেডিক্যাল বিশ্বাসের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়, যা পরিণতিতে সন্ত্রাসবাদে পৌঁছায়। আর চতুর্থ তত্ত্ব বলে, মানুষকে একঘেয়েভাবে লেগে থেকে বিশ্বাস করানো হয় যে, খুবই তুচ্ছাতিতুচ্ছভাবে সে সমাজে আছে এবং এক দুর্বল সামাজিক সম্পৃক্ততায় তাকে ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে মানুষ অমন সন্ত্রাসবাদী ভাবাদর্শকে আপন করে নেয়।’
কেনন দাবি করে বলছেন, ‘পশ্চিমের সমস্যা হলো, তারা এসব পূর্ব-অনুমানের ওপর দাঁড়িয়ে তাদের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদবিরোধী নীতি সাজিয়েছে; যেগুলোর সবই ভুল।’ ইউরোপে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক গবেষণার বরাতে কেনন মালিক বলছেন, সমাজের মূলধারার মানুষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত কি নাÑ এই প্রশ্নে সব গবেষণাতেই প্রমাণিত হয়েছে, যারা জিহাদে যোগ দিয়েছেন তারা কেউই দুর্বলভাবে সমাজের মূলধারার অন্তর্ভুক্ত হয়ে আছেন বা ছিলেনÑ বাস্তবতা এমন নয়। অন্য এক গবেষণাতেও দেখা গিয়েছে, যারা জিহাদের সমর্থক তাদের বিষয়ে গবেষকেরা বলছেন, কেউই সামাজিক অসাম্যে ভোগা বা শিায় পিছিয়ে পড়া ক্যাটাগরির কেউ নন; বরং দেখা গেছে, যারা আকৃষ্ট হয়ে জিহাদে যোগ দিয়েছেন, যাদের বয়স ১৮ থেকে ২০-এর মধ্যে, এরা অবস্থাপন্ন পরিবারের সন্তান, বাসায় ইংরেজিতে কথা বলেন, হাইস্কুল শিায় শিতি; কখনো কখনো তারা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েরও। আসলে গবেষণায় দেখা গেছে, ‘তারুণ্য, অর্থসম্পদ ও শিতি’Ñ সন্তানদের এমন ক্যাটাগরিই বেশি বিপজ্জনক।’ এভাবে কেনন নতুন ক্যাটাগরি তুলে এনেছেন। সারসংপে করে তিনি নিজে কারণ বলছেন এভাবেÑ দেখা গেছে, যোগ দেয়া বেশির ভাগ তরুণ টিনএজ বয়সের। এই তরুণেরা জিহাদি সন্ত্রাসে যোগ দেয়ার কারণ হলো, কিছু একটা তারা খুঁজে ফেরেÑ যা পরিচয়বোধ, অর্থপূর্ণবোধ, শামিলবোধ, সম্মানবোধÑ এসব দিক থেকে খুব বেশি বর্ণনাযোগ্য নয়। তবে তাদের এক বিচ্ছিন্নতাবোধ আছে। রেডিক্যাল ইসলামি বিপ্লবী ভাবাদর্শের কারণে জিহাদি সমস্যার মুখোমুখি পশ্চিমকে হতে হয়েছে, এ কথা তিনি মানতে নারাজ। তবে তিনি মানেন যে, একধরনের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, অপরের প্রতি টান বা আগ্রহ কমে যাওয়ার সমস্যা পশ্চিমা সমাজে আছে। কারণ ইতোমধ্যে তারা প্রধান ধারার সংস্কৃতি, ভাব ও আচার-নিয়ম ত্যাগ করেছে, যা কিছু মুসলিম ইতোমধ্যে এর বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গির খোঁজে নেমেছে। এটা মোটেই বিস্ময়কর নয় যে, জিহাদি হতে ইচ্ছুক অনেকে হয় নতুন করে ইসলামে ধর্মান্তরিত; নয় তো মুসলিম যারা দেরিতে নিজেদের ধর্মের দিকে নজর ফিরিয়েছেÑ এমন। তবে উভয় েেত্র তাদের সমাজনিরাসক্ততা তাদেরকে সাদা-কালোভাবে মরাল কোডের চরম ইসলামিজমের দিকে ঝুঁকিয়ে ফেলেছে। ফলে এটা ঠিক কোনো ভাবাদর্শে বিষাক্ত করে ফেলা নয়; বরং এটা অবশ্যই সমাজের প্রধান ধারার মরাল কাঠামোর প্রতি অনাস্থা এবং একই সাথে এক বিকল্পের খোঁজে লেগে পড়া।’ কেনন বলছেন, ‘অতীতে সমাজের প্রধান ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন এবং সহানুভূতিহীন মানুষ রাজনৈতিক রূপান্তরে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল, চরম বাম ধারা থেকে শ্রমিক আন্দোলন অথবা কোনো বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন এমন অনেক কিছুতেই যোগ দিয়েছেন। ফলে তিনি বলছেন, স্বভাবতই শামিল থাকাহীনতা, সংশ্লিষ্টতাহীনতাবোধ ‘কোনো মুসলিম সমস্যা নয়।’
কেননের মুখে মুসলমানদের দায়ী না করা দেখে আমাদের খুশি হওয়ার কিছু নেই। কারণ প্রশ্ন হচ্ছেÑ কেন পশ্চিমের, বিশেষত ইউরোপের শত শত মূলত টিনএজ তরুণ আইএসের মতো সংগঠনে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে? এটা ৮০-এর দশকে পপুলার অ্যালিনিয়েশন (মানুষ বা শ্রম তার উৎপাদিত ভেতর নিজেকে খুঁজে পায় না) তত্ত্ব দিয়ে একালে আর ব্যাখ্যা করা যাবে না। কারণ এই দৃষ্টিভঙ্গি খুবই সস্তা যা তার একপেশে ও বস্তুবাদী। এটা অর্থনীতিবাদী স্টালিনিস্ট ধারণাও বটে। কারণ আধুনিক রাষ্ট্রে মানুষ যেমন নিজের বস্তুগত সৃষ্টি থেকে বিচ্ছিন্নতা বোধ করে, ঠিক একইভাবে মানুষের প্রতি মানুষের স্পিরিচুয়াল টান অনুভব করে সবার সাথে মিলিত হওয়ার আকুতি ও আকাক্সাও তার ভেতর কাজ করে। এর অভাব মানুষের মধ্যে এক হাহাকারের জন্ম দেয়, সে অস্থির হয়ে ওঠে, দম বন্ধ লাগে। এটাও আর এক চরম বিচ্ছিন্নতাবোধ। অতএব, বিচ্ছিন্নতাবোধ মানেই কেবল বস্তুগত বিচ্ছিন্নতাবোধ নয়; স্পিরিচুয়াল বিচ্ছিন্নতাবোধ। সম্ভবত প্রভাবের দিক থেকে বস্তুগত বিচ্ছিন্নতাবোধের চেয়েও এটা বড়। এটাই কেনন মিস করেছেন। তিনি আশির দশকে পড়ে থাকতে চাইছেন। তার এই দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে আমাদের এই সমালোচনা আরো বৈধ মনে হয় এ জন্য যে, তিনি এরপরে লিখছেনÑ ‘একালের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে মানুষের নিরাসক্তি, রাজনৈতিকভাবে স্বরবিহীন থাকা অবস্থা ছেয়ে গেছে। এ ধরনের উদ্বেগ ও অভাবগুলোকে কোনো চার্চ বা ট্রেড ইউনিয়ন বুঝবে না।’ অর্থাৎ কেনন ২০১৫ সালে এসেও বস্তুবাদসর্বস্ব ‘অ্যালিনিয়েশন বা বিচ্ছিন্নতাবোধ’ তত্ত্ব আউড়িয়ে সব রোগ সারানোর ধন্বন্তরি ওষুধ মনে করতে চেয়েছেন।
কেননের এই রচনার শিরোনাম ‘ইউরোপের বিপজ্জনক মাল্টিকালচারালিজম’। অর্থাৎ ব্রিটেনের নাগরিক হয়েও তিনি ব্রিটিশ মাল্টিকালচারালিজম নীতির সমালোচক। আবার এটাই তার ফরাসি অ্যাসিমিলিয়েশন বা ‘সবাইকে এক রকমকরণ’ নীতির পে দাঁড়ানো। মাল্টিকালচারালিজম বনাম অ্যাসিমিলিয়েশনÑ কথা দুটোরই কোনো সারবত্তা নেই। তবুও বোঝার জন্য শব্দ দুটোর অর্থ খোলাসা করা দরকার। মাল্টিকালচারালিজম বলতে ব্রিটিশ বুঝটা হলোÑ ব্রিটিশ সমাজটাকে সে নানান কমিউনিটির এক বড় কমিউনিটি হিসেবে রাখতে চায়। কলোনি মাস্টারের দেশ ও সমাজে সবাই যে-যার ফেলে আসা নৃতাত্ত্বি¡ক জাত, ধর্মীয়, ভৌগোলিক ইত্যাদি পরিচয় বজায় রেখেই এক বৃহত্তর ব্রিটিশ সমাজে এক ব্রিটিশ পরিচয়ে বড় হোক। বিপরীতে ফরাসি পছন্দের অ্যাসিমিলেশন শুনতে ভালো কিন্তু আসলে অনেক বেশি বলপ্রয়োগে জবরদস্তি করে নাগরিক সবাইকে এক রকম করার প্রচেষ্টা এটা। অর্থাৎ ফরাসি কলোনি মাস্টারের দেশ সমাজে সবাই যে-যার ফেলে আসা নৃতাত্বিক জাত, ধর্মীয়, ভৌগোলিক ইত্যাদি পরিচয়ের স্বীকৃতি নেই। সব ভুলে যেতে হবে, বাদ দিতে হবে। এ জন্য বাধ্য করা হবে। কিন্তু এই বাধ্যবাধকতার দিকটা আড়ালে থেকে যায়। ‘সুন্দর’ ইউনিফর্ম এক রকম করার নামে (ইংরেজি সিমিলার বা এককরণ থেকে অ্যাসিমিলিয়েশন ) জবরদস্তিতে সবাইকে ফরাসি হতে, ফরাসি কালচারই একমাত্র চর্চার কালচার হতে, করতে বাধ্য করা। যতটুকু ও যেভাবে বর্ণনা করলাম, তা থেকে মাল্টিকালচারালিজম বনাম অ্যাসিমিলিয়েশনের ভিন্নতা বোঝা বা বোঝানো যাবে না। কারণ এসব ভারী কথার আড়ালে মূল বিষয়টা লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
প্রথম কথা হলো, পশ্চিমা জগত মাইগ্রেন্ট শ্রমিকের আমদানি ঘটায় একেবারে নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থে, সস্তা শ্রম পাওয়ার স্বার্থে। সব সময় এটাই সে করে এসেছে। ফলে সস্তা মাইগ্রেন্ট শ্রমিক পাওয়ার স্বার্থেই তাকে নিজের সমাজে ‘মাল্টিকালচারালিজম বা অ্যাসিমিলিয়েশন’ বলে বাগাড়ম্বরের জন্ম দিতে হয়েছে। এটা প্রথম সত্য। তবে কতজনকে আসতে অনুমতি দেবে, এটা সময়ে সময়ে তাকে কড়া নিয়ন্ত্রণ করতে যেতে হয় নিজ অর্থনীতি সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ভালো চলা অথবা মন্দা হয়ে চলার সাথে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য। অর্থনীতি ভালো মানে বেশি শ্রমিক প্রয়োজন, এর উল্টা হলে সব খেদাওÑ এটাই হলো আসল নীতি। এরপর দ্বিতীয় আরেক আজব সত্য হলো, কপালগুণে ব্রিটিশের কলোনির তুলনায় ফরাসি কলোনির বাসিন্দারা বেশির ভাগই মুসলমান বা ইসলাম ধর্মপালনকারী। এর ফলে কলোনি প্রজা দেশ থেকে সস্তা শ্রমের মধ্যে মুসলমান প্রজার হার ফ্রান্সের বেলায় বেশি। তাই সস্তা শ্রম ঢোকার অনুমতি দিতে গিয়ে একই ইউরোপে ব্রিটিশ ও ফরাসি হয়েও তাদের নীতি ও অভিজ্ঞতা একই রকম নয়। এভাবে ফ্রান্সে মুসলমানের সংখ্যা বলা হয় ৫০ লাখ। এসব তথ্যের দিকে নজর করে আগাম ব্যবস্থা হিসেবে ফরাসি সরকারগুলো পছন্দ করেছে অ্যাসিমিলিয়েশন নীতি। কারণ অ্যাসিমিলিয়েশনের কথা বলে স্কার্ফ, হিজাব বা কোনো মুসলমান চিহ্ন প্রকাশিত হওয়া ঠেকিয়ে দেয়া যায়। ফেলে আসা নৃতাত্ত্বিক জাত, ধর্মীয়, ভৌগোলিক ইত্যাদি যেকোনো পরিচয় বা চিহ্ন ভুলে গিয়ে সব কিছু ফরাসি হতেই হবে বলে বাধ্য করা যায়। অতএব, ‘মাল্টিকালচারালিজম বা অ্যাসিমিলিয়েশন ফরাসি না ব্রিটিশ কোনটা ভালোÑ এসব কথা আসল কথা লুকিয়ে বাগাড়ম্বর করা।
তাহলে কথা দাঁড়াল, সস্তা শ্রম থেকে বেশি মুনাফার লোভে ক্যাপিটালিজম কলোনি প্রজা দেশ থেকে শ্রম আনতে বাধ্য। আবার সেই শ্রম কে কিভাবে ম্যানেজ করার সুবিধা, তা দেখে সে ভিত্তিতে ‘মাল্টিকালচারালিজম বনাম অ্যাসিমিলিয়েশন’-এর কূটতর্কও সে হাজির করবে। কারণ, নইলে আসল কথাগুলো সরাসরি বলতে হবে। কেনন মালিক তবু ‘মাল্টিকালচারালিজম বনাম অ্যাসিমিলিয়েশন’-এর ভুয়া তর্কের মধ্যে ‘মাল্টিকালচারালিজমকে বেশি বিপজ্জনক বলছেন। কারণ ব্রিটিশরা নাকি ‘মাল্টিকালচারালিজমের কথা বলে মুসলমান ধর্মীয় নেতাদের কমিউনিটির প্রতিনিধি মনে করেন ভুল করে, বেশি গুরুত্ব দেন; ইত্যাদি। কেননের কথা শুনে ব্রিটিশদের বোকা ভাবার কোনো অর্থ নেই। আবার ব্রিটিশদের নীতিটা বেশি ভালো, তা-ও নয়। ব্যাপারটা হলো ম্যানেজমেন্ট। নাগরিকদের বা অপজিশনকে লিবারেল স্পেসের মধ্যে রাখলে; তাদের কথা বলতে দেয়া, বিরোধিতা করতে দেয়ার আইনি সুযোগ বেশি রাখলে তাদের সবার বিরোধিতা সামলে রাখা তুলনামূলক সহজ হবে বলে মনে করা হয়। ব্রিটিশ প্রশাসন মনে করে, এই লিবারেল নীতি তাদের জন্য বেশি ফলদায়ক হচ্ছে। আর ধর্মীয় নেতার প্রসঙ্গটা হলো, ধর্মীয় নেতারা যদি প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো নেতার চেয়ে বেশি প্রভাবশালী হন, তাহলে প্রশাসন কি অস্বীকার করার মতো বোকামি করতে পারে? বরং এ কথা বলাতে কেননের কথায় ইসলামবিদ্বেষের ছায়া দেখা যাচ্ছে। কেনন মালিক নিজেই বলেছেন, ‘মাল্টিকালচারালিজম বা অ্যাসিমিলিয়েশন’ দুটোর মধ্যেই ভালো-মন্দ দুটোই আছে। তবু কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তিনি শিরোনামে ‘মাল্টিকালচারালিজমকে’ বেশি বিপজ্জনক বললেন। এ থেকেও মনে হয়েছে তিনি ফরাসিদের মতো ইসলামবিদ্বেষ জারি রাখার সুযোগটা হারাতে চান না।
লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]

Logo

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,    
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫